নাকের মাংস বা টার্বিনেট বৃদ্ধির আধুনিক চিকিৎসা | ডা. মশিউর রহমান

Inferior turbinate

নাকের মাংস বলতে মানুষ সাধারনত ইনফেরিওয়র টার্বিনেটকে বুঝে থাকে।
এই রকম টার্বিনেট প্রতিটি নাকের ছিদ্রে ৩ টি করে উভয়পাশে মোট ৬টি থাকে।
যখন এই টার্বিনেট ফুলে গিয়ে বাতাস প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে তখন ওষুধের সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। তাতে কাজ না হলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

*ইনফেরিওর টার্বিনেট এর গঠন
• কোয়ানার অস্থি দিয়ে গঠিত।
• অস্থির উপর ইরেক্টাইল মিউকোসা দিয়ে আবৃত।
• নাকের গহ্বরের নিচের দিকে অবস্থিত যা ইন্টেরিওর ন্যাসাল ভাল্ব থেকে ইউস্টেসিয়ান টিউবের সামনে পর্যন্ত বর্ধিত।

নাকের মাংস বৃদ্ধির সংজ্ঞা
যখন নিচের টার্বিনেটটি
• বৃদ্ধি পায়
• কনজেস্টেড হয়
• এংগোরজড হয়
• প্রধানত নিচের টার্বিনেটে অনেক কনজেশন দেখা যায়
এসব বৈশিষ্ট থাকলে নাকের মাংস বৃদ্ধি বলি

টার্বিনেট বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
 ক্ষতিপূরণমূলক হাইপারট্রোফি
 টার্বিনেট প্রসারিত হওয়া
 টার্বিনেটের অগ্রভাগের হাইপারপ্লাসিয়া
 সমগ্র টার্বিনেটের হাইপারপ্লাসিয়া
 টার্বিনেটের পশ্চাৎ ভাগের হাইপারপ্লাসিয়া

রোগের লক্ষন
 নাক বন্ধ হওয়া
 এলার্জিক অথবা নন-এলার্জিক রাইনাইটিস অথবা ক্রোনিক রাইনোসাইনুসাইটিসের মত লক্ষন দেখা দেওয়া
 নিম্ন টার্বিনেটের সম্মুখভাগ কনজেস্টেড হয়ে যাওয়া

পরীক্ষাসমূহ
 এক্স-রে প্যারান্যাসাল সাইনাস- অক্সিপিটো-মেন্টাল ভিউ
 সিটি স্ক্যান – সর্বাধিক কার্যকরি পরীক্ষা
 এম. আর. আই.

চিকিৎসা
মেডিকেল বা কঞ্জার্ভেটিভ চিকিৎসাঃ
 ট্রপিকাল ন্যাসাল স্টেরয়েড – এলার্জিক অথবা নন-এলার্জিক রাইনাইটিস এর প্রধান চিকিৎসা
 যদি ক্রোনিক রাইনোসাইনুসাইটিস থাকে তাহলে ট্রপিকাল স্টেরয়েডের সাথে এন্টি-হিস্টামিন , এন্টি-বায়োটিক এবং স্যালাইন যোগ করা হয়।

শল্য চিকিৎসা

• নাকের মাংস বৃদ্ধির অপারেশনের সূচনা করা হয় ১৮৪৫ সালে।
• প্রথম পদ্ধতি ছিল “ইলেক্ট্রোকটারি”।
• হল এবং হুইজিং নাকের মাংস বৃদ্ধি অপারেশনের ১৩ টি পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা দেন।

 মিউকোসা সংরক্ষন অপারেশন
o ল্যাটারালাইজেশন
o মিনি-মাইক্রোডেব্রাইডার সার্জারি
o রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি
o কোবলেশন
o টার্বিনোপ্লাস্টি
o সাব-মিউকোসাল ডায়াথার্মি

 মিউকোসাল ডিস্ট্রাক্টিভ-রিডাকশন অপারেশন
o সুপারফিসিয়াল কটারি
o কেমো-কটারি ( ক্রোমিক এসিড বা ট্রাইক্লোরিক এসিড)
o ক্রায়ো-সার্জারি
o লেজার অপারেশন

 টার্বিনেট এক্সিশন পদ্ধতি
o আংশিক
o সাব-টোটাল
o পশ্চাৎ ভাগ
মিউকোসা সংরক্ষন অপারেশন

 ল্যাটারালাইজেশন –
o এই পদ্ধতিতে ইলিভেটর দিয়ে কনকাকে ভেঙ্গে নাড়ানো হয় এবং পরে সমগ্র টার্বিনেটকে পাশে সরানো হয়,
o এতে ঝুকির মাত্রা কম

 সাব-মিউকোসাল ডায়াথার্মি –
o মনোপোলার ডায়াথার্মির ইলেক্ট্রোডের মাথায় অত্যাধিক তাপ তৈরী হয় যা কোষ ধ্বংস করে, প্রদাহ করে এবং ফাইব্রোসিস করে।
o অপারেশনের পরে প্রথমে নাক আরো বন্ধ মনে হবে যতদিন না ক্ষতচিহ্ন ভাল হয়।

 কোবলেশন- চিকন ইলেক্ট্রোড ব্যবহার করা হয় যা তৈরী করে-
o নিম্ন তাপমাত্রার(৮৫°) প্লাজমা
o যা সহজে টিস্যু গলিয়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে ফাইব্রোসিস করে

 রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি-
o উচ্চ মাত্রার অল্টার্নেটিং কারেন্ট ব্যাবহার করে প্রচুর তাপ তৈরী করে এবং টিস্যু অপসারন করে

 টার্বিনোপ্লাস্টি-
o প্রথমে টার্বিনেট ভাঙ্গা হয় এবং অগ্রভাগে ও নিচের দিকে ইনসিশন দেয়া হয়
o উভয় পাশের নাকের হাড় থেকে মিউকোসা উপরের দিকে তোলা হয়
o নাকের হাড় / কনকা কাটা হয়

মিউকোসাল ডিস্ট্রাক্টিভ-রিডাকশন অপারেশনঃ
 লেজার সার্জারি- যা নিম্ন টার্বিনেটের আকার কমায়
o এক্সিশন/ কেটে ফেলে
o ভ্যাপুরাইজেশন/ বাষ্পীভবন করে
o কোয়াগুলেশন/ ঘনীকরন করে

 ডাইরেক্ট-মাইক্রোডেব্রাইডার মিউকোসাল রিডাকশন সার্জারি
o নাকের মধ্যম ভাগ থেকে নিম্ন টার্বিনেটের সামনের ২/৩ অংশের মিউকোসা অপসারন করা হয় পেরিঅস্টিয়াম পর্যন্ত
টার্বিনেট এক্সিশন পদ্ধতি

 প্রথমে রিসেকশন লাইন ভাঙ্গা হয় যাতে রক্তপাত কম হয়
 এঙ্গেল সিজার দিয়ে প্রয়োজন মত মাংস কেটে নেওয়া হয়।

জটিলতা
 মাত্রাতিরিক্ত রক্তপাত।
 দির্ঘস্থায়ি ন্যাসাল ক্রাস্ট তৈরী হওয়া।
 ন্যাসাল এডহেসন/সাইনেকিয়া।
 ওজেনিয়া এবং মিউকোসাল এট্রফি
 নাকের ভিতরে দুর্গন্ধময় আবরণী তৈরী হওয়া।
 এম্পটি নোজ সিন্ড্রোম।
 দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া অথবা অন্ধ হয়ে যাওয়া।

ডাঃ মশিউর রহমান
এফসিপিএস
নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ
খিদমাহ হাসপাতাল, ঢাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top